ঢাকা • ৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
মুরাদনগরে ব্যক্তিগত মাদ্রাসাকে ‘এতিমখানা’ দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ মুরাদনগরে এক্সচেঞ্জের ভেতরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ, পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতার আহ্বান সন্তানের স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশে এসে লাশ নিয়ে ফিরছেন মা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও হাম-ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ শিক্ষকনেতার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক তদন্ত নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে মুরাদনগরে শিক্ষকদের সমাবেশ বাঙ্গরায় ‘ডাবল টিভি কাপ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনালে ওমর কায়সান ফুটবল একাদশ বিজয়ী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে কে. এম. মোজিবুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা সফর: অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ কুমিল্লার আলোচিত ত্রিপল মার্ডার: জীবিত দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় খেলাধুলার বিকল্প নেই - কে এম মুজিবুল হক বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ১৪ ঘণ্টা পর দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিলো বিএসএফ

দাউদকান্দিতে বাঁশের ঠেকনায় টিকে আছে জরাজীর্ণ সেতু, আতঙ্কে চলাচল

অনলাইন সংস্করণ
৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ • ১৩৪ বার পঠিত
দাউদকান্দিতে বাঁশের ঠেকনায় টিকে আছে জরাজীর্ণ সেতু, আতঙ্কে চলাচল

অনলাইন ডেস্ক

এখন ব্রিজ পার হই ভয়ে ভয়ে। যদি ভেঙে যায় তাহলে নৌকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে অসুস্থ লোকজন।” কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দাউদকান্দি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার।

আয়েশার এই শঙ্কার কারণ, গোমতী নদীর একটি শাখা খালের ওপর প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত গোলাপের চর এলাকার কংক্রিটের সেতুটি। জরাজীর্ণ সেতুটি বর্তমানে বাঁশের খুঁটির ওপর ভর করেই কোনো রকমে টিকে আছে।

দাউদকান্দি সদর উত্তর ইউনিয়নের গোমতী নদীর গোলাপেরচর পাড় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়কটি চেঙ্গাকান্দি উত্তর পাড়ায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই সড়কের মাঝপথে গোলাপেরচর গ্রামের গোমতীর শাখা খালের ওপর থাকা সেতুটি এলাকাবাসীর একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দুই উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ ফারহান বলছিলেন, “গোলাপের চরের মানুষের দাউদকান্দি উপজেলার সঙ্গে স্থলপথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই ব্রিজটি। এটা ভেঙে পড়লে অকল্পনীয় ভোগান্তি হবে। তার আগেই যেন বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়, সেই দাবি জানাই।”


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোলাপেরচর সেতুর মাঝের অংশ দেবে গিয়ে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া। পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, রেলিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং মরিচাধরা রড বেরিয়ে এসেছে।

এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেতুটি কোনোভাবে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়রা ‘শতাধিক’ বাঁশের খুঁটি গেঁথে অস্থায়ীভাবে সেতুটিকে ঠেকনা দিয়ে রেখেছেন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বর্তমানে সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদেরও যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে সেতু পার হতে হচ্ছে। এই সেতুটি শুধু দাউদকান্দির গোলাপেরচর গ্রামের নয়, মেঘনা উপজেলায় যাতায়াতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।

অটোরিকশা চালক মো. খালেক বলেন, “সেতুর এমন অবস্থা যে, এপার থেকে ওপারে যেতেও ভয় লাগে। কেউ অসুস্থ হলেও তাকে হেঁটেই সেতু পার করতে হয়। সব সময়ই একটা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজটা ভেঙে গেছে। এখন বাঁশের ঠেকনা দিয়ে তো আর এত বড় স্থাপনা রাখা সম্ভব না। এটা একটা মরণফাঁদ।”

দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করে জনসাধারণকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।” 

সংবাদ: বিডি নিউজ ২৪

আরও পড়ুন